
Download উত্তর ভারতীয় রাজ্য উত্তর প্রদেশের বৃন্দাবনকে ‘বিধবাদের নগরী’ বলা হয়।
এখানে উচ্চশ্রেণীর বিধবারা পরিবার থেকে পরিত্যক্ত হয়ে থাকতে আসেন।
তাদের অপয়া হিসাবে দেখা হয় কাজেই বেঁচে থাকার জন্যে তাদের মাথা মুড়িয়ে সাদা পোশাক পরে মন্দিরে মন্দিরে ভক্তিগীতি গেয়ে জীবনধারণ করতে বাধ্য করা হয়।
প্রায় আড়াই বছর ধরে একটি বিনামুল্যের মধ্যাহ্নভোজ প্রকল্প তাদের অনেক প্রয়োজনীয় সমর্থন হিসাবে কাজ করছে।
বৃন্দাবন থেকে জসবিন্দর সেহগলের প্রতিবেদন।
বৃন্দাবনের একটি ঘরে পরিত্যক্ত মহিলাদের জন্যে দুপুরের খাবার দেওয়া হয়। আজকের খাদ্য তালিকায় আছে ভাত, সবজি, ডাল ও স্থানীয় রুটি। খাওয়ার আগে মহিলারা খাদ্যের জন্যে সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানান।
সেইসাথে তারা অক্ষয়পাত্রকেও ধন্যবাদ জানায়, যে বেসরকারি সংগঠনটি প্রতিদিন তাদের বিনামূল্যে খাবার দিয়ে চলেছে।
৫৪ বছরের পার্বতী গত বছর থেকে এখানে খাচ্ছেন।
“খাবার খুবই ভালো। ঈশ্বর আমাকে বাঁচিয়ে রাখছেন।”
গত বছর পর্যন্ত তাকে মন্দিরে ভক্তিগীতি গেয়ে এবং এমনকি কখনো রাস্তায় ভিক্ষা করে পেট চালাতে হয়েছে।
তার স্বামীর মৃত্যুর পর তার ছেলের বৌ তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।
“ছেলের বৌ এর সাথে কোন রক্তের সম্পর্ক থাকেনা বলে তাদের টানও থাকেনা। আমি ছিলাম আমার ঘরের কর্ত্রী কিন্তু ভালো সময় চিরদিন থাকেনা। আমার কষ্ট হচ্ছে কিন্তু তারপরেও আমার কিছু খাবারের নিশ্চয়তা আছে।”
আজ এখানে দুপুরের খাবার খেতে ১৪০ জন বিধবা এসেছেন। তাদের বেশিরভাগের বয়সই সত্তরের বেশি।
সুভ্যক্তা নরসিমহা দাসা বৃন্দাবনের বিনামুল্যের মধ্যাহ্নভোজ প্রকল্পের দায়িত্বে আছেন।
“আমরা দেখলাম বৃন্দাবনের অনেক বিধবাই খুব করুণ অবস্থায় আছেন। তখন আমরা ভাবলাম আমরা যেহেতু খাওয়ানোর কাজটাই প্রধানত করি কাজেই এই বিধবাদেরও কেন খাওয়ানো যাবেনা? মথুরা জেলায় আমরা অনেক বাচ্চাদের খাইয়ে আসছি। কাজেই এখন আমরা এই বিধবাদেরও খাওয়াচ্ছি এবং প্রতিদিন আমরা তাদের চার পদ দিয়ে খাওয়াই। আমরা বছরের ৩৬৫ দিনই তাদের একবেলা করে খাবার দেই। সময়ের সাথে সাথে আমাদের বিশ্বাস আরও অনেক লোক, অনেক সমর্থক এগিয়ে আসবেন এবং আমরা বৃন্দাবনের সব বিধবাদের খাওয়াতে পারবো।”
বৃন্দাবনে প্রায় ৩০০০০ বিধবা ও পরিত্যক্তা মহিলার বাস।
জাতীয় মহিলা কমিশন সর্বোচ্চ আদালতে দেওয়া তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে এই বিধবারা সরকারের সকল সাহায্য কর্মসূচি ও স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবাদের পারিবারিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা আইন পরিপন্থী।
কিন্তু বাস্তবে তারা অপয়া এই হিন্দু বিশ্বাসকে পুঁজি করে তাদের বঞ্চিত করা হয়।
৬৩ বছরের জানকীকে তার স্বামীর মৃত্যুর পর তার একমাত্র ছেলে লাথি মেরে ঘর থেকে বের করে দেয়।
অশ্রুভেজা চোখে তিনি তার কথা বলতে চাইলেন।
“অনেকদিন অসুখে ভুগে আট মাস আগে আমার স্বামী মারা যান। এখন পৃথিবীতে আমি একেবারেই একা। আমাকে বাঁচার জন্যে অন্যদের সাহায্যের উপর নির্ভর করতে হয়। তোমরা খাওয়ালে আমি বাঁচবো নয়তো আমার মারা যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।”
পরিত্যক্তা কেন্দ্রের অর্ধেকের মতো মহিলা স্বচ্ছল পরিবার থেকে এসেছেন। জাতীয় মহিলা কমিশনের সাবেক সভাপতি ডঃ মোহিনী গিরি বৃন্দাবনের বিধবাদের অবস্থার উপর একটি গবেষণা করেছেন।
তিনি বলেন বিধবাদের ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে তেমন কিছু করা হয়নি।
“যতদিন পর্যন্ত না পুরুষ এবং সমাজ বিধবাদের ব্যাপারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করবে ততদিন বিধবাদের নিজ থেকে ক্ষমতায়ন হবেনা। তাকে যারা খাটো করে রেখেছে সেই পুরুষ ও সমাজের দ্বারা তার ক্ষমতায়ন হতে হবে। একারণেই মহিলাদের অবস্থার উন্নয়নে আমরা এখন সমাজ, ধর্মীয় নেতৃত্ব এবং সাধারণভাবে পুরুষদের নিয়ে কাজ করছি।”
দুপুরের বিনামুল্যের খাওয়ার পালা শেষ হয়েছে।এটা শুধু দিনে একবেলার খাবার এবং এসব মহিলার প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য।












