
এ বছরের শুরুতে ভূমিকম্প, সুনামি ও পরমাণু চুল্লির গলনের মতো ভয়াবহ ঘটনার কারণে জাপান আলোচনায় ছিল।
কিন্তু জাপানের সঙ্গীতপ্রেমীরা মনে রাখবেন ১১ মার্চের ভূমিকম্প টোকিও সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার বাড়িটি প্রায় শেষ করে দেয়।
নয় মাত্রার ভূমিকম্পে অর্কেস্ট্রার কোটি কোটি ডলারের ক্ষতি হয় যার মাঝে রয়েছে বিশ্বমানের মিলনায়তনের দুর্দশা যার ফলে শো বাতিল ও টিএসও কে অন্য জায়গায় চর্চা করতে বাধ্য করা।
কিন্তু টোকিও সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
মার্ক উইলাসির প্রতিবেদন।
তাদের অনুমতি পেতে তিন দিন লেগেছে। কাওয়াসাকি শহরের একটি ভাড়া করা মিলনায়তনে ৯০ সদস্যের টোকিও সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা একটি বড় শো এর জন্যে চর্চা করছে।
তারা ছোট্ট এই মঞ্চে আটকা পড়েছে কারণ কিছুদূরের তাদের সাত বছরের পুরানো বিশ্বমানের মিলনায়তনটি মার্চের ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড।
জুঞ্জি অহ্ন অর্কেস্ট্রার ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
“সেদিন ছিল শুক্রবার। সেদিন রাতে মিলনায়তনে আমাদের একটা কনসার্ট ছিল কিন্তু আমি হঠাৎ একটা ফোন পেলাম যে খারাপ কিছু ঘটতে যাচ্ছে। আমি ভেবেছিলাম ছোট কিছু কিন্তু ভাই, আমি খুব চমকে গিয়েছিলাম। ছাদ ভেঙ্গে পড়ছিল, বাতি ও স্পীকারগুলো মাটিতে পড়ে ছিল। মিলনায়তন ভেসে যাচ্ছিল।”
নয় মাত্রার ভূমিকম্পের প্রায় নয় মাস পরেও টোকিও সিম্ফন্য অর্কেস্ট্রার মিলনায়তনটির এখনও বাজে অবস্থা। আসন ও সর্বত্র ছাদের ভাঙ্গা টুকরো। স্পীকার ও বাতিগুলো মেঝেতে এদিক সেদিক ছড়িয়ে আছে। ভাগ্যিস কারো প্রাণহানি হয়নি।
শিগেও কামেওকা কাওয়াসাকি শহরের কর্মকর্তা।
"সারাতে ২০ মিলিয়ন ডলার লাগবে। আর আগামী ১৬ মাসেও এটা ঠিক হবেনা।”
জায়গাটি খুবই অনিরাপদ। বোঝাই যাচ্ছে ১১ মার্চের ভুত এখনও ক্ষতি করেই যাচ্ছে।
আমরা সেখানে থাকা অবস্থাতেই ছাদের একটা বড় অংশ দ্বিতীয় তলার আসনগুলোর উপর ভেঙ্গে পড়লো। কর্মীরা পালিয়ে বাঁচল। মিলনায়তনের ক্ষতির কারণে অর্কেস্ট্রার আয় ও পরিবেশনার ক্ষতি যেমন হচ্ছে তেমনি চর্চা করাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুঃস্বপ্ন।
"আমরা ২০ টার মতো কনসার্ট বাতিল করেছি। আমাদের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
চর্চার জন্যে অর্কেস্ট্রার কাওয়াসাকি শহরের বিভিন্ন ভাড়া করা মিলনায়তনের উপর নির্ভর করতে হয় এবং আজকের চর্চাটাও অর্কেস্ট্রার সুবিখ্যাত পেশাদারিত্ব ও সহিষ্ণুতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ রাতটি এসে গেছে আর টোকিও সিম্ফনি ভরা মজলিশে ফরাসী সুরকার ফাউরের একটা সুর বাজাচ্ছে। আজ রাতে মঞ্চে অর্কেস্ট্রার সদিচ্ছা ও মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার পরীক্ষা চলছে।
"১১ মার্চ আমাদের ও সকল জাপানির জন্যে একটা ভয়ঙ্কর দিন ছিল। আমাদের মিলনায়তন আমাদের বাড়িঘর। যারা সংগীত করে তারা সবাই এটা বুঝবে। কাজেই আমাদের বাড়ি হারানোটা একটা বড় আঘাত।”
ঘরছাড়া হলেও টোকিও সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা এখনও দর্শকশ্রোতার শ্রদ্ধা ও প্রশংসা আদায় করে নিচ্ছে।












