AsiaCalling

Home সংবাদ নেপাল নেপালে অন্ধ মহিলাদের জন্যে ক্রিকেট সম্মান বয়ে এনেছে

নেপালে অন্ধ মহিলাদের জন্যে ক্রিকেট সম্মান বয়ে এনেছে

ইমেইল প্রিন্ট পিডিএফ

Download 

নেপালে অন্ধ মহিলা হওয়ার মানে হচ্ছে আপনার জীবনে করার মতো খুব বেশি কিছু থাকবে না।

কিন্তু এখন তাদের কাছে বিশ্বের প্রথম অন্ধ মহিলা ক্রিকেট দলের জাতীয় ক্রিকেট খেলোয়াড় হওয়ার সুযোগ আছে।

সুনীল ন্যুপেন কাঠমান্ডুতে একটি প্রশিক্ষণ পর্বে দলটিকে দেখতে গিয়েছিলেন।

২৪ বছরের সুনিতা ঘিমিরে তার ব্যাট করার সময়ের জন্যে অপেক্ষা করছেন।

তিনি ও তার দল যা করছেন তা ইতিহাস হয়ে থাকবে।

“আমাদের ছাড়া অন্য কোন দেশে অন্ধ মহিলাদের জন্যে ক্রিকেট দল নেই। কাজেই আমাদের দল বিশ্বে প্রথম। আমাদের অ্যাসোসিয়েশান আমাদের দলটাকে গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নিবন্ধনের চেষ্টা করছে।”

তিনি জন্মান্ধ।

ক্রিকেট নেপালে ব্যাপক জনপ্রিয় এবং তার পরিবার তাকে এতে জড়িত হতে উৎসাহ দেয়।

“আমার পরিবার বিশেষ করে আমার বোন আমাকে অন্ধ ক্রিকেটে জড়িত হতে বলে। সে আমাকে খেলতে উৎসাহ দেয়। আমার প্রতিবেশী ও আত্মীয়রাও উৎসাহ দিয়েছিল। আমি ক্রিকেট খেলতে শুরু করলে আমার প্রতি লোকজনের ব্যবহার পাল্টে গেলো।”

২০০৬ সালে অন্ধ ক্রিকেট প্রথম নেপালে আসে যখন দুজন পাকিস্তানী অন্ধ ক্রিকেট কোচ বেশকিছু প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিচালনা করেন।

পাওয়ান ঘিমিরে প্রথম অন্ধ খেলোয়াড়দের একজন।

গৃহযুদ্ধের সময় নেপাল সেনাবাহিনীর হয়ে কাজ করতে গিয়ে একটি ভূমি মাইনে তিনি তার চোখ হারান এবং এখন তিনি নেপাল অন্ধ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশান এর সভাপতি।

“অন্ধ হওয়ার আগে আমি সারাদিন ক্রিকেট দেখতাম। আমি ছিলাম এক সত্যিকারের ক্রিকেট ভক্ত। কিন্তু আমি কখনো খেলিনি। অন্ধ হওয়ার পরেই আমি খেলা শুরু করি। এখন আপনি আমাকে একজন ক্রিকেট আসক্ত ব্যক্তি বলতে পারেন। এখন আমি সারাদিন ক্রিকেট নিয়েই চিন্তা করি।”

২০০৭ সালে পাওয়ান ও তার দল একটি অন্ধ মহিলা দল তৈরি করে।

“অবশ্যই নেপালে আমাদের মহিলা ক্রিকেট দল বিশ্বে প্রথম এবং আমাদের মূল সংগঠন বিশ্ব অন্ধ ক্রিকেট কাউন্সিল তার স্বীকৃতি দিয়েছে।”

প্রশ্ন- আপনি মহিলাদের জন্যে দল গঠনের কথা কেন ভাবলেন?

“সুযোগ দেওয়া হলে অন্ধ মহিলারাও ছেলেদের মতো খেলতে পারে। তাহলে মহিলাদের জন্যে কেন আলাদা ক্রিকেট দল থাকবে না? আর বিশ্বে ভালো একটা কিছু শুরু করা খারাপ কি? এটা অন্যদের জন্যে অনেক উৎসাহের হতে পারে। এবং ক্রিকেটে তাদের সংশ্লিষ্টতা পুনর্বাসনের একটা উপায় হতে পারে এবং অন্ধ মেয়েদের বাড়ির বাইরে বের হওয়ার একটা পথ হতে পারে।”

নেপালে এখন শ’খানেক অন্ধ মহিলা ক্রিকেট খেলোয়াড় আছেন।

 

২০ বছরের চণ্ডিকা তিমিলসিনা কাঠমান্ডুতে তার বোনের বাড়িতে চা খাচ্ছেন।

সাত বছর বয়সে এক মারাত্মক জ্বরের পর তিনি তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন।

“আমার কখনোই ক্রিকেটার হওয়ার ইচ্ছা ছিল না কিন্তু কাঠমান্ডুতে আসার পর আমার বোন আমাকে প্রতিবন্ধীদের একটা হোস্টেলে নিয়ে গেলো। তারপর আমি ক্রিকেট দলে যোগদান করে খেলতে শুরু করি। যখন আমি মাঠে প্রথমবারের মতো নামলাম তখন আমি খুব দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম যে আমরা কিভাবে খেলবো কারণ আমরা সবাই অন্ধ। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে আমি ক্রিকেট বলের শব্দের সাথে পরিচিত হয়ে গেলাম এবং আমি শব্দ শুনে খেলতে পারলাম।”

প্রচলিত ক্রিকেট আর অন্ধ ক্রিকেটের মূল পার্থক্য হচ্ছে বলে।

একটি তিন সাইজের ফুটবল ব্যবহার করা হয় এবং সেটাও বল বেয়ারিং এ ভর্তি করা থাকে যাতে খেলোয়াড়েরা শুনতে পান।

উইকেটও একটু প্রশস্ত থাকে এবং অন্ধ ব্যাটসম্যানের কাছে যাওয়ার আগে বলকে অবশ্যই দু’বার মাটিতে পড়তে হয়।

চণ্ডিকা নেপালের সেরা অন্ধ বোলারদের একজন।

“মানুষ আমাকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক ভাবতো। কিন্তু এখন তারা আমার সাথে অন্যরকম আচরণ করে। কাজেই আমি শুধু বিনোদনের জন্যে ক্রিকেট খেলছি না, সেইসাথে আমার ব্যক্তিত্বের বিকাশের জন্যেও। ক্রিকেট আমার জীবনের একটা বড় অংশ হয়ে গেছে।”

নেপালে এখন পাঁচটি আঞ্চলিক মহিলা ক্রিকেট দল রয়েছে।

গত বছর তারা প্রথম জাতীয় টুর্নামেন্ট খেলেছিল এবং একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে চায় কিন্তু অন্য কোন দেশের এখনও মহিলা ক্রিকেট দল নেই।

চণ্ডিকার বোন অনিতা বলেন ক্রিকেট তার জীবন পরিবর্তন করে দিয়েছে।

“ক্রিকেট তাকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করেছে। তাকে প্রথমবার খেলতে দেখে আমি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারিনি। আমি ঐদিন যে কি খুশি হয়েছিলাম আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না!”

সর্বশেষ আপডেট ( সোমবার, 30 জানুয়ারী 2012 14:22 )  

Add comment


Security code
Refresh

Search