AsiaCalling

Home সংবাদ শ্রীলংকা শ্রীলঙ্কার মাইন অপসারণ কাজের প্রথম সারিতে আছেন বিধবারা

শ্রীলঙ্কার মাইন অপসারণ কাজের প্রথম সারিতে আছেন বিধবারা

ইমেইল প্রিন্ট পিডিএফ

Download 

শ্রীলংকার গৃহযুদ্ধ শেষ হয়েছে। বিন্তু দেশটির আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে লাখ লাখ অবিস্ফোরিত ভূমিমাইন। এই মাইনগুলোর কারনে প্রায় সাধারণ মানুষ মারা যাচ্ছেন বা বিকলাঙ্গ হচ্ছেন। এগুলোর কারণে অনেকেই গ্রামে ফিরে যাওয়াটা বিপদজনক মনে করছেন। সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন সাহায্য সংস্থা এই মাইন ক্ষেত্রগুলো পরিষ্কারের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে। গৃহযুদ্ধের সময় বিধবা হওয়া মহিলারা এই মাইন পরিস্কারের মতো বিপদজনক কাজটি বেছে নিচ্ছেন।

রেডিও অস্ট্রেলিয়ার রিচার্ড লিন্ডেলের প্রতিবেদন।


থেরারাসা নিথিয়ানান্থি গৃহযুদ্ধের সময় তার স্বামীকে হারিয়েছেন। দেশটির আনুমানিক ৯০,০০০ বিধবাদের মধ্য তিনি একজন। অভাবের কারনে এবং সংসার চালানোর জন্য বাধ্য হয়ে তাকে এই কাজ বেছে নিতে হয়েছে।

“এ কাজ করতে আমার ভয় লাগে। আমি সাবধানতার সাথে কাজ করার চেষ্টা করি।”

দেশটিতে কাজের বড়ই অভাব আর দিনমজুরিতে কাজের কোন নিশ্চয়তা নেই বা তেমন টাকাও পাওয়া যায় না। মাইন পরিষ্কার করে তিনি মাসে ২০০ মার্কিন ডলার বেতন পান।

আমাকে কাজ করতে হতো কারণ আমার চার ছেলেমেয়ের মুখে খাবার জোগাতে হয়। আমার স্বামী বেঁচে নেই আর ছেলেমেয়েদের চাহিদা মেটাতে আমি হিমশিম খাচ্ছিলাম। কাজেই আমি বাধ্য হয়ে এই কাজ করতে শুরু করলাম।

মাইন বিস্ফোরনের কারনে তার কাজ আরও কঠিন হয়ে গেছে। প্রায় ত্রিশ বছরব্যাপী গৃহযুদ্ধে সরকার ও বিদ্রোহী উভয়পক্ষই মাটিতে মাইন পুঁতেছে। শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী তাদের মাইন ক্ষেত্রগুলোর হিসাব রাখলেও তামিল টাইগাররা তা করেনি। তার মানে হচ্ছে পরিষ্কার না করা সব জায়গাই হুমকির মুখে আছে। এ যুদ্ধের অন্যতম ভয়ংকর কিছু অংশের সাক্ষী কিলিনচ্ছি। সেখানে এখনও নতুন নতুন মাইন ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হচ্ছে। হ্যালো ট্রাস্ট একটি এনজিও যারা যুদ্ধশেষে পড়ে থাকা ভূমিমাইনগুলো পরিষ্কার করছে। বারথি দিগবি এই সংস্থাটির একজন স্থানীয় ব্যবস্থাপক।

“মানুষ আবারো পুনর্বাসিত হচ্ছে। তাদের আবার জঙ্গলে তাদের পুরনো জমিতে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে জঙ্গল থেকে নতুন নতুন মাইন ক্ষেত্র উদ্ধারের খবর আসছে। এখন আমাদের শুধু এগুলো মাথায় রেখে প্রয়োজনমত জরিপ, নির্দিষ্টকরণ ও পরিষ্কারকরণের কাজ করতে হয়।”

এই ক্ষেত্রটিতে তিন মাস আগে কাজ শুরু হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ২০০ মাইন অপসারণ করা হয়েছে। কিন্তু এই বিস্তৃত চাষের জমির অনেক অংশ এখনও পরিষ্কার করা বাকি। এটা ধীরগতির, যন্ত্রণাদায়ক কাজ। মৌলিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে এই মহিলারা ৫০ সেন্টিমিটার করে জমি পরিষ্কার করছেন। এ যুদ্ধে কি পরিমাণ মাইন পোঁতা হয়েছিলো তার কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও ধারণা করা হয় এখনও ১০০ বর্গকিলোমিটারের উপর মাইনক্ষেত্র পরিষ্কার করা বাকি যেখানে লাখ লাখ মাইন থাকতে পারে। ১০০ বর্গকিলোমিটার জায়গা খুব বেশি না এমন মনে হতে পারে। কিন্তু এই মাইন নিষ্ক্রিয়কারী মহিলারা দিনে মাত্র ২০ বর্গমিটার জায়গা পরিষ্কার করতে পারেন।

শ্রীলঙ্কার উত্তর এলাকা ভূমিমাইন ঘনত্বে বিশ্বের মধ্যে অন্যতম শীর্ষে। কিন্তু সেনাবাহিনী ও সাহায্য সংস্থাগুলোর স্পষ্ট নির্দিষ্টকরণের ফলে অন্যান্য সংঘর্ষের এলাকার তুলনায় এখানে হতাহতের সংখ্যা কম। ২০১০ সালে নয়জনের মৃত্যুর এবং ৩৮ জনের আহত হওয়ার তথ্য আছে কিন্তু এটার একটা সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির দিকও রয়েছে। মাইনের কারণে মূল্যবান চাষের জমি ব্যবহৃত হতে পারছে না এবং হাজার হাজার শরণার্থী তাদের ঘরে ফিরতে পারছেন না।

“আমি মানুষের বাঁচার, চাষের ও গবাদিপশু পালনের জন্যে জমি নিরাপদ করতে সাহায্য করছি। মানুষের উপকারে লাগায় আমি খুশি।”

কানেশান কৃষ্ণবেনি এই দলের সেকশন কম্যান্ডার। চার সন্তান ও পিতামাতা নিয়ে তার সংসার তার বেতনের উপর নির্ভরশীল। এখানে পদোন্নতি ও সাফল্য পেলেও এটা তার ভবিষ্যতের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়নি।

“এই চাকরির পর কি করবো তা এখনও আমি ভাবিনি। এ জায়গা ছাড়লে আমার জন্যে চাকরি পাওয়া কঠিন হবে।”

এদিকে সাহায্য সংস্থাগুলো বলছে শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের সবচেয়ে বিপদজনক এই উত্তরাধিকারকে পরিষ্কার করতে আরও এক দশক ধরে করার মতো কাজ বাকি রয়েছে।

সর্বশেষ আপডেট ( মঙ্গলবার, 24 এপ্রিল 2012 07:45 )  

Add comment


Security code
Refresh

Search