AsiaCalling

Home আর্কাইভ

নেপালের প্রথম যৌন খেলনার দোকান

ইমেইল প্রিন্ট পিডিএফ

Download নেপালে গর্ভপাত বৈধ। দেহব্যবসা অবৈধ কিন্তু রাজধানীতেই এটা অনেক আছে অন্য নামে যেমন ম্যাসেজ পার্লার। এবং নেপাল সরকার সম্প্রতি সমকামী বিয়ের অনুমোদনও দিয়েছে। কিন্তু রাজধানীতেও কনডম বা অন্য জনপ্রিয় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী কেনাটা বেশ কঠিন।

যুবরাজ ন্যুপেন দেশব্যাপী যৌন খেলনার দোকানের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশটির যৌনতা বিষয়ক নীরবতার সংস্কৃতিকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছেন।

রাজন পারাজুলি তার কাঠমান্ডুর দোকানটিতে গিয়েছিলেন...



কাঠমান্ডুতে এখানে লোকে কাপড় ও জুতা কিনতে আসে... কিন্তু এখন এখানে নতুন আকর্ষণ আছে।

হলুদ রঙের সাইনে একটি হাস্যজ্বল সর্পিল কনডম ‘কনডম হাউসে’ স্বাগত জানাচ্ছে।

৩৩ বছর বয়স্ক প্রাক্তন স্বাস্থ্যকর্মী যুবরাজ ন্যুপেন দোকানটির মালিক।

"আমার পরিকল্পনা হচ্ছে এ দোকানটিকে যৌনতা বিষয়ে কথা বলার একটা জায়গা হিসাবে তৈরি করা। কাজেই মানুষের যৌনতার কাজে লাগে এমন সম্ভাব্য সবকিছুই আমি রেখেছি। এখানে অনেক ধরণের কনডম আছে। এই আনন্দদায়ী কনডমগুলি কোরীয়-ইংরেজ যৌথ উদ্ভাবন। এই ফ্রেঞ্চ কিসটি আসলে জাপানের কনডম। আমার এখানে আমেরিকান ও মালয়েশিয়ার ব্র্যান্ডও আছে। এগুলো পুরুষাঙ্গের আংটি, পিচ্ছিলকারক ও কনডম স্প্রে।”

এখনো কাঠমান্ডুতে একটা কনডম কেনা খুব কঠিন কাজ।

৩০ বছরের রামেশ্বর বহারা এ বছর বিয়ে করেছেন।

“এটা খুবই কঠিন। কখনো কখনো আমাকে দোকানে ১৫ মিনিটও অপেক্ষা করতে হয়েছে একটি কনডম চাইতে যাতে অন্য সব লোক গেলে আমি চাইতে পারি। আমি হতবাক। আপনি বিশ্বাস করতে পারেন!...কনডম বা অন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী চাইলে দোকানদাররা এতো বিব্রত হয়! তারা গোপনে সেগুলো দেয় এবং দেওয়ার সময় চারদিক দেখে নেয়। মনে হয় তারা কোন অন্যায় করছেন।”

একটা কনডম কিনতে ���তো ঝামেলা কেন হবে?

“কারণ আমরা যৌনতা নিয়ে কথা বলিনা। আমার সারাজীবনে আমি আমার পরিবারে এটা নিয়ে কথা বলিনি। আমার সমবয়েসি ভাইকেও আমি যৌনতা নিয়ে কখনো কিছু জিজ্ঞাসা করিনি। কেউ অভিযোগ করেনি কিন্তু আমার মনে হয় আমাদের পুরো বেড়ে ওঠাটা এমনই। আমরা মনে করিনা যৌনতা খারাপ কিন্তু মনে করি এটা গোপন ও বেশি ব্যক্তিগত।”

যৌন খেলনার দোকানের মালিক যুবরাজ বলেন এ দোকানের অনুমতি পাওয়াটা সহজ ছিল না।

"আমি সরকারি কার্যালয়ে আমার দোকান নিবন্ধন করাতে গিয়েছিলাম। যে সরকারি কর্মকর্তার সাথে আমার দেখা হয়েছিলো তিনি ছিলেন মহিলা। তিনি রেগেমেগে আমার দিকে তাকালেন আর বললেন, “আপনি কি কোন ভালো নাম পাননি? আমি এটা নিবন্ধন করবো না।“ আমি জানতে চাইলাম কেন আমার নতুন নাম দরকার। আমি বললাম, আমি আম বা অন্য কিছুর দোকান খুলছি না। আমি কনডম বেচবো। কাজেই নামটাতে সমস্যা কি? তিনি অবশেষে কাগজে স্বাক্ষর করলেন। আমি ভাবলাম, তার যদি কনডম লিখতেই সমস্যা হয় তবে তিনি সেটা কিভাবে ব্যবহার করবেন?”

যুবরাজ বলেন দোকানের প্রচারও অনেক কঠিন ছিল।

"প্রথমে দোকান পাওয়াটাই কঠিন ছিল। যার কাছেই যেতাম, যেই লোকে শুনত এটা একটা যৌন খেলনার দোকান তারা আর কিছু শুনতে চাইত না। দোকানের প্রচারের জন্যে আমি প্রথমে দোকানের সামনের রাস্তায় বসে বিনামূল্যে কনডম বিলি করতাম। আমি সারা শহরের দেয়ালে পোষ্টার লাগালাম। অনেক লোক এমনকি তরুণরাও আমার সামনেই আমার প্রচারপত্র ছিঁড়ে ফেলে বলতো আমি সমাজ ধ্বংস করছি। “আপনি কোন সাহসে এখানে এ ধরণের পোষ্টার লাগালেন?”

কিন্তু দোকান চালু হবার দুই বছর পর অনেককিছু বদলে গেছে।

নেপালের তরুণ প্রজন্মের অনেকেই কাজে বা পড়তে দেশের বাইরে গিয়েছে।

ফিরে আসার পর তারা বদলে গেছে।

যুবরাজ বলেন প্রতিদিন কাঠমান্ডুর দোকানটায় একশোর মতো লোক আসেন। অনেক ক্রেতা সবার সামনেই তাদের যৌন সমস্যা ও চাহিদার কথা জানান।

যুবরাজ এখন নেপালের বিভিন্ন শহরে চারটি যৌন খেলনার দোকান চালান।

যুবরাজ বলেন দোকানগুলি মানুষের চাহিদা মেটাচ্ছে।

"আমি মহিলাদের জন্যে অনেক ডিলডো বিক্রি করেছি। আপনারা জানেন অনেক নেপালি পুরুষ কাজের জন্যে বাইরে থাকেন। তারা তাদের স্ত্রীদের ডিলডো উপহার দেন। প্রত্যেকেই আলাদা। তাদের আনন্দের জন্যে ভিন্ন ভিন্ন ধরণের কনডমের প্রয়োজন হয়। এই দোকানে মানুষ কখনো যৌন সমস্যার কথা বলতে বা কিভাবে যৌন আনন্দ পাবে তা জানতে দ্বিধা করেন না। আমার স্বপ্ন নে
সর্বশেষ আপডেট ( সোমবার, 31 অক্টোবর 2011 11:46 )  

Add comment


Security code
Refresh